রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয়- ঘুম ভালো লাগে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিলআমাদের অনেকের রাতে ঘুমের সমস্যা হয় কারণ রাতে বিভিন্ন কারণে ঘুম হয় না। রাতে ঘুম না হওয়ার কারণে বিভিন্ন রকমের রোগ দেখা দেয়। রাতে ঘুম এমন একটা জিনিস যা না হলে বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ঘুম না আসার কারণ রয়েছে।। সবারই ঘুমাতে ভালো লাগে। ছাত্র জীবনে পড়ার টেবিলে বসে শুধু মনে হতো কখন ঘুমাইতে পারবো। কিন্তু আমাদের মাঝে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না। রাতে ঘুম না আসা সত্যিই খুব কষ্টের ও বিরক্তির ব্যাপার। আপনি যদি রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয় এবং ঘুম বৃদ্ধির উপায় নিয়ে বিভিন্ন তথ্য খুঁজে থাকেন। তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গায়ই এসেছেন। আপনি এই পোষ্টের মাধ্যমে এখনই জানতে পারবেন যে রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয় এবং ঘুম বৃদ্ধির কি কি উপায় রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

প্রিয় ভিউয়ারস আপনারা যদি রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয় এবং ঘুম বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনি আমাদের এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে আপনিও এখনই জেনে নিতে পারবেন রাতে ঘুম না হওয়ার কারনে কি কি সমস্যা হতে পরে। আজকের পোষ্টটি সাজানো হয়েছে রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয়, ঘুম বৃদ্ধির উপায় কি, কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়, রাতে ঘুম না আসার কারণ, রাতে ঘুম না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার। তাই এই টিপসগুলো সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
ঘুম মানুষের শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অনেকেই ঘুমের মূল্য দিতে জানিনা এমনকি ঘুম যে আমাদের মানব শরীরের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেটা উপলব্ধি করতে পারি না। তাইতো আমরা কারনে অকারণে রাত জেগে থাকি। সময় মতো ঘুমাতে যায় না। না ঘুমিয়ে গান শোনা, টিভি দেখা, সিনেমা দেখা, খেলা দেখা ইত্যাদি করে আমরা অহেতুক রাত জাগি। যার ফলে রাতের অনেকটা সময় আমাদের ঘুম হয়না বা ঘুম আসে না। নিয়মিতভাবে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার কারণে আমাদের নানাবিধ শারিরীক ও মানুষিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনি অনেক জটিল রোগও দেখা দিতে পারে।
তাই আজকে আমরা রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয় ও রাতে ঘুম না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার, ঘুম বৃদ্ধির উপায়, রাতে ঘুম না আসার কারণ, এবং কোন ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম কম হয়। তাই আপনি যদি এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের পোস্টটি পড়ে নিজেকে কিভাবে সংশোধন করবেন তা জেনে নিন।
রাতে ঘুম না আসার কারণ
অনেক মানুষের রাতে ঘুমের সমস্যা হয় কারণ রাতে বিভিন্ন কারণে তাদের ঘুম হয় না। রাতে ঠিকমত ঘুম না হওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। রাতে ঘুম এমন একটা জিনিস যা ঠিকমত না পুরা হলে বিভিন্ন ধরনের শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ঘুম না আসার অনেক কারণ থাকতে পারে। অন্যতম কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
- যখন মানুষ মানুসিক ভাবে অশান্তিতে থাকে নানা রকমের চিন্তার কারণে তখন রাতে তাদের ঘুম হয় না। রাতের ঘুম ঠিকমত না হলে তাদের ব্রেনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবে মানসিক শান্তিতে না থাকলে বিভিন্ন চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা।
- আবহাওয়াজনিত কারনে যদি রাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম দেখা দেয় তাহলে রাতে ঘুম আসতে চায় না। সহজে মানুষ আসার জন্য চাই আরামদায়ক পরিবেশ।
- যদি কোন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটা সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার রুটিন মেনে চলে তাহলে সেই রুটিন মেনে ঘুমাতে যাওয়া উচিৎ। ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করলে বা ঘুমানোর বিছানা পরিবর্তন করলে সহজে ঘুম আসতে চায়না।
- অস্বাস্থ্যকর ঘুম যা সময়ে বাইরে পড়া হয় অর্থাৎ যখন মানুষ ঘুমায় না সেই সময়ে যদি আপনি ঘুমান তাহলে এই সময়ে ঘুমের কারণে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘুম দেহ ও মনে প্রশান্তি আনে। তার জন্য মন সব সময় ফ্রেশ রাখতে হবে। তবেই বিছানাতে গেলে ঘুম আসবে নাহলে ঘুম নাও আসতে পারে।
- মানুষ নানাবিধ শারিরীক সমস্যার কারনেও ঘুমাতে পারে না। রাতে ঘুমের সময় যদি অ্যাসিডিটি, থাইরয়েড, হরমোন, বাতের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি নানাবিধ শারিরীক সমস্যা দেখা দেয় তাহলেও রাতে ঘুম আসে না বা ঠিকমত ঘুম হয় না।
কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়
ঘুম মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কারণ ঘুম ছাড়া মানুষ আচল। একটা মানুষের ঘুম যদি পরিপূর্ণ না হয় তবে তার ব্রেণ ও মনে নানাই টাইপের সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে শরীরে নানাবিধ রোগ দেখা দেয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম জরুরি। এর ফলে সেই সময় মানুষের ব্রেন বিকোশিত হয় এবং ব্রেন আরাম পায়।
ব্রেন রিফ্রেশ ও বিকোশিত হওয়ার জন্য রাতে ঘুম সবচেয়ে দরকারি। ঘুম ভাল নাহলে নানা রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ঘুম ভাল হলে একটা সুন্দর রিফ্রেশমেন্ট কাজ করে। এজন্য প্রতিটা মানুষের ঘুমের প্রয়োজন তাদের মেধা বিকাশ ও আরাম পাওয়ার জন্য। আমাদের শরীরে যখন ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা দেয় তখন ঘুম কম হয় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
যদি র্দীঘদিন যাবত ঘুম কম হয় তাহলে চোখের নিচে কালো হয়ে যায় এবং স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়ে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘুম খুব প্রয়োজন। যেসকল খাদ্য থেকে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় সেই সকল খাদ্য প্রতিদিন খাবার বার তালিকায় রাখতে হবে। খাদ্য গ্রহণে বিশেষ নজর রাখতে হবে। ঘুম ভালো হওয়ার জন্য ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ভিটামিন-ডি শরীরে হাড় ও দাঁত মজবুত ও শক্ত করতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।
ঘুম বৃদ্ধির উপায়
- ঘুমাতে যাওয়ার ১০/২০ মিনিট পূর্বে অল্প মেডিটেশন করতে পারেন এতে আপনার স্নায়ু গুলো রিলাক্স হবে যার ফলে আপনি দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে পারবেন।
- ঘুমানোর জন্য বিছানাতে যাওয়ার আগে কিছু বাদাম বা অল্প পরিমান দই খেতে পারেন যার ফলে আপনার ব্রেন মেটাটোনিন নিঃসরণ করতঃ ঘুমিয়ে যেতে সাহায্য করে।
- নিজেকে সর্বদা চাপমুক্ত রাখতে হবে। সারাদিনের চিন্তা-ভাবনা বাসায় নিয়ে এসে ঘুমের সময় সেই চিন্তাভাবনা করা থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘুম হচ্ছে আরামের অন্যতম একটি মাধ্যম তাই সেই সময় নিজেকে রিলাক্সে রাখতে হবে। যে কাজ করলে আপনি আনন্দ পাবেন বা তৃপ্তি পাবেন সে সকল কাজ করতে হবে এবং চাপমুক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। তবেই আপনার সহজেই ঘুম আসবে।
- ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে একটু হালকা গান শোনা বা এক কাপ চা খেয়ে রিলাক্স মূডে বিছানায় ঘুমাতে যেতে পারেন। এছাড়া কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন এতে আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে এবং রাতের ঘুম ভালো হবে।
- যখন আপনি বাইরে থেকে কাজ শেষে বাসায় ফিরবেন তখন বাইরের সকল চাপ, চিন্তা-ভাবনা সব ফেলে রেখে বাসায় আসবেন। বাইরে থেকে আসার পর আপনি নিজেকে রিলাক্স রাখতে যে কাজগুলো করতে পছন্দ করেন সেই কাজগুলোই করবেন তাহলে আপনার রাতেও ভালো ঘুম হবে আশা করা যায়।
- ঘুমানোর সময় শয়ন কক্ষে লাল বাতি জ্বালাতে পারেন এতে আপনার মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ায় এবং ঘুমাতে সাহায্য করে এটি গবেষণায় প্রমাণিত।
- যে সকল কাজ বা অভ্যাস ঘুমের জন্য ব্যাঘাত হয়। সেই সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ইলেকট্রিকের জিনিসপত্র বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকতে হবে। এই সকল জিনিসপত্র আমাদের শরীরের ঘুমের সমস্যা করে।
রাতে ঘুম না হলে কি কি সমস্যা হয়
মানুষের মনে শান্তির জন্য ঘুম সবচেয়ে দরকারী একটা জিনিস, যা মানুষের শান্তি দেয়। শারীরিকভাবে যদি পর্যাপ্ত শান্তির ঘুম না হয় তাহলে ব্রেন ও মস্তিস্কের নানা সমস্যা শুরু হয়। ঘুম ভাল না হলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বেড়ে যাওয়া, অবসাদ ইত্যাদি শরীরে নানান সমস্যা দেখা দেয়। রাতের ঘুম এমন একটি জিনিস যা ব্রেনের ডেভেলপমেন্ট করতে পারে।
রাতের ঘুম ভালো না হলে ধাতু উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। যার ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, শরীর চিকন হয়ে যায়, ওজন হ্রাস পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, খাবারে অরুচি, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় ও শরীরে অলসতা বৃদ্ধি পাওয়ার মতো নানা রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রাতের ঘুম সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।
রাতে ঘুম না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার
- সঠিক খাদ্য অভ্যাস বজায় রাখতে হবে তাহলে রাতে ঘুম ভালো হবে।
- নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে হবে সবসময় ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে বিধায় ঘুম ভালো হবে। নিয়মিত মেডিটেশন ও ব্যায়াম করতে হবে তাহলে ঘুম ভালো হবে।
- সারাদিন বাইরে কাজ করার পর শরীরে ব্যথা থাকতে পারে। তাই কাজ শেষান্তে বাইরথেকে ফেরার পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে।
- প্রতিদিন একই সময়ে রাতে ঘুমাতে যেতে হবে। ঘুমের একটি রুটিন তৈরি করে নিতে হবে তাহলে ঘুম ভাল হবে।
- রাতের বেলা ঘুমের সময় চা-কফি পান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সঠিক খাদ্যাভাস তৈরি করতে হবে।
- রাতে ঘুমের সময় ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে এটার রেডিয়েশন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন।